মাহমুদের বই
- ইতিহাসের পথে পথে (দ্বিতীয় পর্ব)
ইতিহাসের নানা চমকপ্রদ ঘটনা নিয়ে 'ইতিহাসের পথে পথে'। কেবল ঘটনা নয়, আছে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও ব্যক্তির কথা। জনপ্রিয় ধারায় কোনো ঘটনা, ব্যক্তি বা শহরকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়, এ বইয়ের প্রবন্ধগুলো তা থেকে ভিন্ন। গভীর থেকে বিশ্লেষণ, ব্যবচ্ছেদের চেষ্টা দেখা যাবে প্রতিটি লেখায়। প্রথম পর্বের পর দ্বিতীয় পর্বেও থাকছে কৌতূহলোদ্দীপক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ-নিবন্ধ। ঔপনিবেশিক আমলের চিত্রকলার সম্পর্কে জানতে পারবেন পাঠক। নিতে পারবেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার খাবারের স্বাদ। রেহমান ডাকাইতের লারি কলোনীও আছে এখানে। পৃথিবীর সেরা ও প্রভাবশালী নারী শাসকদের চেনাবে এই বই। বঙ্গভঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ভূমিকাও জানা যাবে৷ সমুদ্রের রাজা জামোরিনের ইতিহাস যেমন আছে, তেমনি আছে ভারতের ক্রিকেট খেলার ইতিহাসও। 'ইতিহাসের পথে পথে' বাস্তবিক অর্থেই পাঠককে নিয়ে যাবে পৃথিবীর বিভিন্ন সময়ে, শহরে ও মানুষের কাছে। নিছক বর্ণনা নয়, পাঠক অনেক কিছু চোখের সামনে দেখতে পাবেন বলেই আশা করা যায়।
- ইতিহাসের পথে পথে
ইতিহাসের নানা চমকপ্রদ ঘটনা নিয়ে ‘ইতিহাসের পথে পথে’। কেবল ঘটনা নয়, আছে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও ব্যক্তির কথা। জনপ্রিয় ধারায় কোনো ঘটনা, ব্যক্তি বা শহরকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়, এ বইয়ের প্রবন্ধগুলো তা থেকে ভিন্ন। গভীর থেকে বিশ্লেষণ, ব্যবচ্ছেদের চেষ্টা দেখা যাবে প্রতিটি লেখায়। কুবলাই খান, ইস্তানবুল, জ্ঞানের শহর বাগদাদ, ইদি আমিন, সুফি আবুল খায়ের, ফরাসি পারফিউম ইত্যাদি নানা বিচিত্র বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ-নিবন্ধ স্থান পেয়েছে এই সংকলনে। আছে জারদের কথা, বিপ্লবের কথা। বলশেভিক বিপ্লব থেকে শুরু করে নিজামের রাজ্যের বিয়ে, ইন্দিরা গান্ধীর ঘরের খবর, কাওয়ালির ইতিবৃত্ত, শহর লক্ষ্ণৌয়ের ইতিহাস, বেদুঈনদের জীবন, কেরালার বাণিজ্যসহ আরও অনেক কিছু। ‘ইতিহাসের পথে পথে’ বাস্তবিক অর্থেই পাঠককে নিয়ে যাবে পৃথিবীর বিভিন্ন সময়, শহর ও মানুষের কাছে। নিছক বর্ণনা নয়, পাঠক অনেক কিছু চোখের সামনে দেখতে পাবেন বলেই আশা করা যায়।
- মোগলনামা (দ্বিতীয় খণ্ড)
মোগল শাসনের সময়কে পাঠকের সামনে স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে 'মোগলনামা'র প্রথম খণ্ডে বাবুর থেকে আওরঙ্গজেবের মৃত্যু পর্যন্ত মোগল শাসনামলের ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে মোগল ভারতের একটি চিত্র তুলে ধরার প্রয়াস করা হয়েছে। সাধারণভাবে মোগল আমল বলতে এই ছয় সম্রাটের শাসনকালই পরিচিত। আওরঙ্গজেব পরবর্তী, অর্থাৎ ১৭০৭ খ্রিষ্টাব্দের পরের মোগল ইতিহাস কেবল মোগলদের ইতিহাস থাকেনি। এ সময়ের সঙ্গে মারাঠা, শিখ, বাংলা ও অযোধ্যার নওয়াবী, দাক্ষিণাত্যের নিযাম, ব্রিটিশদের ক্ষমতা দখলের চেষ্টা এবং সর্বোপরি সিপাহী বিদ্রোহ জড়িত। তাই এই খণ্ডে উঠে এসেছে নাদির শাহ্র দিল্লী অভিযান, আবদালীর আক্রমণ এবং পানিপাতের তৃতীয় যুদ্ধ, এমনকি পলাশীর যুদ্ধ। ‘মোগলনামা'র দ্বিতীয় খণ্ডে, মোগল শাসনামলের দ্বিতীয়ার্ধ সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনার চেষ্টা করা হয়েছে। সময়ের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের বিশ্লেষণ এই বই।
- মোগলনামা (প্রথম খণ্ড)
প্রথমেই বলে রাখা প্রয়োজন যে, আমার এই লেখাটি প্রথাগত ‘ইতিহাস গ্রন্থ’ নয়। আবার এটি নিছক কোন ‘ফিকশন’ও নয়। ঐতিহাসিক প্রতিটি তথ্য অক্ষুন্ন রেখে কখনও গল্পচ্ছলে, কখনও পাঠকের সাথে আলাপচারিতার ঢঙে আমি মোগলদের উত্থান থেকে শুরু করে আওরঙ্গজেবের মৃত্যু পর্যন্ত সময়ের কালক্রমিক ঘটনাবলি বর্ণনা করেছি। সেই সকল ঘটনার প্রতিটা ঐতিহাসিক, এবং ঐতিহাসিকভাবে সত্য। সেখানে কোন কল্পনার আশ্রয় নেই। প্রথাগত ইতিহাস গ্রন্থের কাঠখোট্টা ভাব থেকে বেরিয়ে এসে আমি নতুন ধারায় ইতিহাস কথনের প্রয়াস পেয়েছি, যেন তা আগ্রহী পাঠকদের জন্য সহজপাঠ্য হয়, আবার ঐতিহাসিক সত্যও সেখানে অক্ষুন্ন থাকে। আবার এর পাশাপাশি আছে মোগলদের নিয়ে প্রচলিত নানা উপকথা তথা মিথের সত্য মিথ্যা নিরূপণের চেষ্টাও করেছি। উপযুক্ত তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি মোগল ইতিহাসকে। তিন বছরের দীর্ঘ পরিশ্রমে লেখা এই বই সম্পর্কে একথা আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, যাদের ইতিহাসে আগ্রহ আছে তারা এ বই পড়ে আনন্দিত হবেন। যারা গল্প পড়তে চান, তারা এ বইয়ে গল্প খুঁজে পাবেন। আবার মোগল ইতিহাসের নানা বাঁকে আছে রহস্য। যারা থ্রিলার পছন্দ করেন, তারাও কিছুটা থ্রিল খুঁজে পাবেন। আবার যারা ঐতিহাসিক তথ্য তথা একাডেমিক পড়াশোনা করতে চান, তাদের জন্যও এ বইয়ে রয়েছে তথ্যের ভাণ্ডার। এ বই নিছক ইতিহাস নয়, এটি একটি যাত্রা। আমি আপনাদের একটি যাত্রায় নিয়ে যেতে চেয়েছি। আপনাদের সে যাত্রা মসৃণ করতে সব ধরনের চেষ্টাই আমি করেছি, তবু পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত করা হয়ত সম্ভব হয়নি। সে সব ত্রুটি নিজগুণে ক্ষমা করতঃ যদি আমার গোচরীভূত করেন, তবে আশা রাখি পরবর্তী যাত্রায় তা শুধরে দিতে পারবো।
- রুসওয়া
একজন শিল্পীর নস্টালজিয়া আর ঘোরের মধ্যে দিয়ে এ উপন্যাস, তার পাঠককে ভালোবাসার নানা রঙ আর এই শহরের বদলে যাওয়ার গল্পটা বলতে চায়। এক জীবনে শিল্পী আসলে কোনো যোদ্ধার তুলনায় কম ত্যাগ করে না। ইউলিসিসের চেয়েও দীর্ঘ তার যাত্রা। অবশ্য একালে পেনিলোপেরা অপেক্ষা করে না। তাই, একবিংশ শতাব্দীতে প্রেমিকার অপেক্ষায় থাকা শিল্পী হয়ত কায়েস, ফরহাদ, মীর্জার মতোই মজনু। কিন্তু সংসারে সে বদনাম—রুসওয়া।
- রঙ মিলান্তি
অনেকদিন হলো, শহরটা বদলে গেছে। নব্বই দশকের তিলোত্তমা ঢাকার কাব্যিকতা আর নেই। আজকের মেগাসিটি ঢাকা, জনসংখ্যার আধিক্য, যানজট আর দূষণ নিয়ে টিকে আছে। এখানে মানুষ আসে জীবিকার প্রয়োজনে। তারপর ছুটতে থাকে যন্ত্রের মতো কিংবা ঠুলি আঁটা পশুর মতো। অথচ, একটা সময় ছিল যখন এই শহরে বসেই কিছু মানুষ স্বপ্ন দেখত। সোডিয়াম বাতির নিচে হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে পরের দিনটা নিয়ে সোনালি স্বপ্ন বুনত। সেই মানুষেরা বুঝি হারিয়ে গেছে। কিন্তু স্বপ্ন আসলে মরবার নয়। হতেই পারে শহরের সোডিয়াম বাতি নেই, সেই মায়াবী আলো নেই। কিন্তু ধবধবে সাদা বাতির শহরে পথ চলতে চলতে এখনও অনেকে স্বপ্ন দেখে। কেননা মানুষ স্বপ্নে বাঁচে। স্বপ্ন দেখে তারুণ্য। সে স্বপ্নে গান থাকে, সুর থাকে, থাকে ছন্দ-কবিতা। কখনও সে গান, কবিতা তারুণ্যের বুকে বিদ্রোহের আগুণও জ্বালিয়ে দেয়। গানের সাথে স্লোগান, কবিতা আর সুরে মিলে রাজপথ রঙিন হয়। ঢেউ ওঠে শাহবাগ থেকে ধানমন্ডি, বসুন্ধরা থেকে বুড়িগঙ্গা। এই সময়ের সেই স্বপ্নবাজ তরুণদের প্রতিনিধি নাদিম, রিক্তা, বেলা, আরিফ, সজীব, শিহাব, শাহরিয়ার। তাদের চাওয়া-পাওয়া, প্রেম, জীবন-যুদ্ধ, যুদ্ধের মাঝে দর্শন, দর্শনের মাঝে স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে ছোপ ছোপ রঙ। অন্যভাবে বললে এই প্রাণগুলোই রঙিন। সেই রঙিন প্রাণের হাত ধরে একটা শান্ত, সুন্দর সময়ের খোঁজে পথ চলার নাম ‘রঙ মিলান্তি’।
- বেলাভূমি
সময়টা অস্থির। তার নিজেরই কোনো গন্তব্য নেই। মানুষগুলোরও সেই দশা। তবে এদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করে তারা গন্তব্যটা জানে। তাই ছুটে চলে। আবার কেউ কেউ মনে করে তারা খুঁজে পেয়েছে অনেকদিন পর। তারাও ছুটে যায়। কিন্তু আদতে কিছু মানুষ হয় সমুদ্রের মতো। তাদের বুকে উত্তাল ঢেউ। সেই ঢেউ তাদের বুকে জমা ইচ্ছে, স্বপ্ন, মানুষদের ছিটকে ফেলে। কখনও সামুদ্রিক ঝড়ের মতো অস্থির তারা, আবার কখনও ঝড়ের পর শান্ত প্রকৃতির মতো স্নিগ্ধ। এই উপন্যাসের মূল চরিত্র বেলাও তেমন। কভিড-১৯ এই পৃথিবীতে নানা পরিবর্তন এনেছে। এর সবকিছু এখনও দৃশ্যমান না। তবে কভিড যে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে তাতে সন্দেহ নেই। আমাদের প্রতিদিনকার যাপিত জীবন থেকে শুরু করে বিশ্বাস, আদর্শকেও প্রভাবিত করেছে মহামারি। কেউ মানিয়ে নিতে পারছে, কেউ পারছে না। কভিডের আগের জীবন আর পরের জীবন সম্পূর্ণ আলাদা। সেই বদলে যাওয়া জীবন নিয়েই এ বইয়ের গল্প। সে গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এক নারীর জীবন। কিংবা তার জীবনের কথাই ‘বেলাভূমি’র মূল গল্প। এ কালের এক নারীর বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার প্রাথমিক পর্যায়ের গল্প বলে বেলাভূমি। তার জীবনের সঙ্গে মিশে থাকে সমাজের, সময়ের কিছু নিয়ম, আদর্শ, যাপিত জীবনের রীতি আর সেই রীতি ভাঙার ইচ্ছে। তাকে কখনো সাহায্য করে কভিড-পরবর্তী সময়। কখনো প্রশ্ন করে পুরোনো সম্পর্ক। আর নিয়মের নিগড়ে থেকে নিয়ম-ভাঙা সে নারী সমুদ্রের নোনাজলের মতো আছড়ে পড়ার জন্য খোঁজে এক টুকরো আশ্রয়। বই: বেলাভূমি প্রকাশক: ভুমিপ্রকাশ মূল্য: ৩৬০ টাকা
- অবিরাম বৃষ্টির শহরে
বৃষ্টিটা নেমেছিল ফেরার সময়। ওরা কুঁড়ে ছেড়ে আধ মাতাল অবস্থায় হেঁটেছিল আরো খানিক। ফেরার সময় বৃষ্টি নামল ঝিরঝির করে। তার মধ্যেই হেঁটে এসেছিল রাস্তা অবধি। দাঁড়িয়েছিল বন্ধ চায়ের দোকানের সামনে। সুমনার মনে হয়েছিল সময় ধীর হয়ে গেছে। ততক্ষণে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে কিন্তু ওর মনে হচ্ছিল বৃষ্টি পড়ছে ধীর লয়ে। যেমন ধীর লয়ে রাজীবের অ্যাডামস অ্যাপল হয়ে নামছিল একফোঁটা ঘাম কিংবা বৃষ্টির জল। তারপর দুজনের ঠোঁট একত্র হয়েছিল অনিবার্যভাবে। কিন্তু সুমনা চোখ বোজেনি। সে চোখ ভরে দেখছিল চারপাশটা। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো কেমন করে পাতায় টপ করে পড়ছে, চায়ের দোকানের খড় চুইয়ে নামছে জল, সব সে দেখেছিল খুব মন দিয়ে। রাজীবের গালের এক পাশে কিছু জায়গায় দাঁড়ি কম হয়। বড় থাকলে বোঝা যায় না। শেভ করা অবস্থায়ও বোঝার কথা না। কিন্তু আধো অন্ধকারে সেখানেই হাত বোলায় সুমনা। ঘাড়ের কাছে একটা পুরনো আঘাতের চিহ্ন আছে। কেমন করে হয়েছিল, বলে না রাজীব। দ্বিতীয় চুমু খেতে গিয়ে সেখানেও হাত বুলিয়ে দেয় সুমনা। বৃষ্টির ছাঁট আসছে তখন একটু একটু। ফেরার সময় রাজীব কথা বলেনি। বলেছিল সুমনা। ঠিক স্কুল ছাড়ার পরপর প্রেমে পড়া কিশোরী মেয়েটার মতো কলকল করে কথা বলেছিল সে। রাজীব হাসিমুখে শুনেছিল তার কথা। মনে হচ্ছিল বলা আর শোনা শেষ হবে না। অটোরিকশার বাইরে তখনো ঝরছিল বৃষ্টি। বই: অবিরাম বৃষ্টির শহরে প্রকাশক: অধ্যায় প্রকাশনী মূল্য: ২৫০ টাকা
- দ্রৌপদী
একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমার হঠাৎ চোখ পড়ে দ্রৌপদীর উপর। পৃথিবীর প্রধান চারটি মহাকাব্যের মধ্যে বোধ করি দ্রৌপদীই সর্বাধিক সোচ্চার, সক্রিয় এবং প্রতিবাদী নারী চরিত্র। বহুকাল ধরে নানা জনে তাঁকে নানা দৃষ্টিতে বিচার করেছেন—কখনও তিনি মহাকাব্যের নায়িকা, কখনও নারীবাদের প্রতীক। কিন্তু দ্রৌপদী আমার চোখে খানিক ভিন্নরূপে ধরা দেয়। তাই তিনি ভিন্ন আঙ্গিকেই উপস্থাপিত। মহাভারতের মিথ, অলৌকিকতাকে পাশে রেখে এই উপন্যাসে রক্তমাংসের দ্রৌপদীর ছবিটি আঁকতে চেয়েছি। এই দ্রৌপদী কন্যা, জায়া, জননী, রাজ্ঞী। একজন পূর্নাঙ্গ নারী যিনি জীবনের চূড়ান্ত অভিষ্ট লাভ করেছিলেন, তার বাহ্যিক পরিচিতির সঙ্গে সঙ্গে মনোজগতের সন্ধান করতে গিয়ে ভারতবর্ষের অতীত, বর্তমান, পৌরাণিক এমনকি অনাগত নারীদের নিভৃত মানসের আখ্যান হতে চায় ‘দ্রৌপদী’।
- পঞ্চকন্যা
পুরাণে পঞ্চকন্যা বা পঞ্চসতী নামে পরিচিত অহল্যা, মন্দোদরী, তারা, কুন্তী ও দ্রৌপদী। প্রথম তিনজন মূলত রামায়ণের চরিত্র। মাহমুদুর রহমান-এর 'পঞ্চকন্যা' এদের গল্প না। বরং মহাভারতের পাঁচ নারী চরিত্রকে নিয়ে এই বই। তারা হলেন হিড়িম্বা, সত্যবতী, সুভদ্রা, অম্বা ও গান্ধারী। প্রত্যেকেই মহাভারতে নানা ঘটনার নিয়ামক। কিন্তু তাদেরকে মহাভারতে অন্য অনেক চরিত্রের মধ্যে আলাদা করে দেখা সহজ না। এই পাঁচ নারীকে কাছ থেকে দেখার চেষ্টা, তাদের গল্প বলার চেষ্টা 'পঞ্চকন্যা'।
- রাধেয়
আমি সূত কিংবা সূতপুত্র, কিংবা আমি যে-ই হই না কেন জন্ম আমার দৈবের অধীন, কিন্তু কর্ম আমার পৌরুষের এমনটাই বলেছিলেন কর্ণ। যখন মানুষ কুলগৌরবে গৌরবান্বিত হয়ে জন্মের কারণে সুবিধা লাভ করত, ছোটজাত মেনে নিত উচ্চ বর্ণের চাপিয়ে দেওয়া নিয়ম, তখন কর্ণ সে পুরুষ, যিনি বহুযুগ ধরে চলে আসা নিয়মের বিরোধিতা করেছিলেন। জন্মের পরই মাতৃ পরিত্যক্ত সেই কর্ণ, মহাবীর কর্ণ, দাতা কর্ণ নামে পরিচিত হন। মহাভারতকে আশ্রয় করে কর্ণকে নিয়ে এ উপন্যাস। মহাভারতে কর্ণ কখনও সূতপুত্র, কখনও সূর্যদেবের পুত্র। কিন্তু 'রাধেয়' তাঁর সে সব পরিচয় বহন করেও আরও বৃহৎ কোন অনুসন্ধানে এগিয়ে চলে। 'রাধেয়' একজন মানুষের গল্প। দোষে গুণে যে মানুষ নিজেকে খুঁজে বেড়ায়, নিজের জীবনের অর্থ খুঁজে বেড়ায়। সে খোঁজের মাঝে সমাজের বাঁধা, নিজের বিবেকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব। সবকিছু মিলিয়ে কর্ণকে, কিংবা নিজেকে খুঁজে পাওয়ার যাত্রার নাম 'রাধেয়'।
- শকুনি উবাচ
আদতে শকুনি ছিলেন একজন বুদ্ধিমান, প্রতিভাশালী মানুষ। আর্যাবর্তের উচ্চ-নীচ ভেদাভেদের প্রতি তার কিছু ক্ষোভ ছিল, অভিযোগ ছিল। সেখান থেকেই প্রতিশোধ পরায়ণ হয়েছেন। হয়ত লোভীও ছিলেন। শকুনিকে বুঝতে গেলে তার এই ক্ষোভ, প্রশ্ন, লোভ আর মহাভারতের নানা কার্যকারণের দিকে লক্ষ্য করতে হয়। সেখান থেকে শকুনি চরিত্র বিশ্লেষণ করলে তাকে হয়ত সাহিত্যের প্রথম ‘সাইকোপ্যাথ’ বলেও ধরা যাবে। সে চেষ্টা করতে গিয়েই দেখলাম শকুনির মধ্যে রয়েছে নানামুখী প্রতিভা। তিনি ভালো পাশারু, হিসাবে দক্ষ। মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে ভাবতেন। আসলে মহাভারতে শকুনি কোন দৈব ক্ষমতা ব্যবহার করেনি। মানবীয় ক্ষমতা দিয়েই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু একালে একতরফা ‘ভিলেন’ বানিয়ে শকুনির প্রতি যে অবিচার মানুষ করছে, সেরকম অবিচার করেছেন খোদ ব্যাসদেব। মহাকাব্যে যথেষ্ট জায়গা নিয়ে তিনি শকুনিকে আঁকেননি। কোথাও না কোথাও শকুনিও বঞ্চনার শিকার। শকুনি অবশ্যই ‘খল’ ছিলেন কিন্তু তাকে আরও গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি মনে করি। সে বঞ্চনার ইতিহাস লেখা হয়নি। আমার মনে হয়েছে শকুনির কিছু বলার আছে। মহাভারতে দাঁড়িয়ে একমাত্র শকুনির পক্ষেই এমন অনেক কথা বলা সম্ভব যা বলার সাহস অন্য কারও ছিল না।
- ফিরাক
দ্বিপদী, ম্যাক্সিম, শের শায়েরি; কেবল সাহিত্যেরই না বরং মানুষের মনোগত আনন্দ-বেদনা প্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম। খুব অল্প কথা দিয়ে যা প্রকাশ করা হয়, বিস্তারিত ব্যখ্যা দিয়েও তা অনেক সময় করা সম্ভব হয় না। 'ফিরাক'-এ উর্দু ভাষার সেরা কবি মীর্জা গালিব, তাঁর পূর্ববর্তী মীর তকী মীর এবং খুসরোর শের রয়েছে। সেই সঙ্গে আছে কবির দাসের দোঁহা। শের এবং দোঁহা ভাষাগত দিক হতে আলাদা। কিন্তু কবিরকে গালিব, মীরদের সঙ্গে রাখা হয়েছে মরমী বক্তব্যের জন্য। এই সংকলনে উক্ত কবিদের মরমী অর্থ ধারণকারী দ্বিপদীগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মানুষ, মানবতা, ঈশ্বর নিয়ে কথা বলেছেন এরা সকলে। এখানে সংকলিত প্রায় প্রতিটি শের শায়েরিতে কোনো না কোনো গূঢ় বক্তব্য রয়েছে। বাংলা অনুবাদে বাংলার লালিত্য যথাসম্ভব ধরে রেখে মূলের কাছাকাছি থাকা হয়েছে। কিন্তু গালিব, মীর, খুসরো, কবিরদের দ্বিপদী এতো গভীর অর্থ বহন করে, যা কিছুটা ব্যাখ্যা না করলে অনেক ক্ষেত্রে বোঝা কঠিন। তাই লেখকের বোঝাপড়া থেকে যোগ করা হয়েছে নাতিদীর্ঘ ব্যাখ্যা ও কিছু শব্দার্থও।